পরিশোধিত মূলধনের চেয়ে পুঞ্জীভূত লোকসান বেশি হওয়ায় বস্ত্র খাতের কোম্পানি এইচআর টেক্সটাইল লিমিটেডকে ‘বি’ থেকে ’জেড’ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত গতকাল থেকে কার্যকর হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
ক্যাটাগরি পরিবর্তনের কারণে ডিএসই থেকে সব ব্রোকার হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংককে কোম্পানিটির শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের ঋণ সুবিধা না দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৪-২৫ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জুলাই-মার্চ) এইচআর টেক্সটাইলের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১৮ টাকা ৪৬ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৫ টাকা ৮৯ পয়সা। ৩১ মার্চ ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২ টাকা ৯৮ পয়সায়।
সমাপ্ত ২০২৩-২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি কোম্পানিটি।
না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানিটির পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে এইচআর টেক্সটাইলের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১৯ টাকা ৬৭ পয়সা। আগের হিসাব বছরে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ৫৪ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২১ টাকা ৪৩ পয়সায়।
সমাপ্ত ২০২২-২৩ হিসাব বছরে উদ্যোক্তা পরিচালক বাদে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে এইচআর টেক্সটাইলের ইপিএস হয়েছে ৫৪ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২ টাকা ৫৪ পয়সা (পুর্নমূল্যায়িত)। ৩০ জুন ২০২৩ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৪১ টাকা ৩৩ পয়সায়।
সমাপ্ত ২০২১-২২ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের ৫ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছে এইচআর টেক্সটাইল। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ৭৯ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২ টাকা ৭৫ পয়সা (পুর্নমূল্যায়িত)। ৩০ জুন ২০২২ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৪১ টাকা ২৩ পয়সায় (পুর্নমূল্যায়িত)।
এইচআর টেক্সটাইলের সর্বশেষ সার্ভিলেন্স এনটিটি রেটিং দীর্ঘমেয়াদে ‘এ’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি থ্রি’। ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে এ প্রত্যয়ন করেছে ন্যাশনাল ক্রেডিট রেটিংস লিমিটেড।
প্রাইড গ্রুপের রফতানিমুখী নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার এইচআর টেক্সটাইল ১৯৯৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। ১০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে বর্তমানে কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ২৯ কোটি ২২ লাখ ২০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৩৩ কোটি ৪১ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ২ কোটি ৯২ লাখ ২১ হাজার ৫০০। এর ৩৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৩ দশমিক ৪৮ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৫১ দশমিক ৯৮ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।